1. pratidinbarta24@gmail.com : admin : প্রতিদিনবার্তা২৪
  2. sajalsrabon46@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
আমার কোয়ারেন্টাইন দিনগুলো এবং আমি - প্রতিদিনবার্তা২৪.কম
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:-
পূর্বাচল প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থা কর্তৃক ঈদ সামগ্রী বিতরন রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভায় ৩ মাস ধরে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যবসায়ীর গলিত লাশ উদ্ধার । “সুইসাইড কোনো সমাধান নয়”শেখানো ব্যাক্তিটি নিজেই সুইসাইড করলেন রূপগঞ্জে ছিনতাইকারীদের হাতে পিক আপ ড্রাইভার খুন দর্শকদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঈদের পরদিন ড:মাহফুজুর রহমানের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান “হিমেল হাওয়ায় ছুঁয়ে যায় আমায় তারুণ্যের বিজ্ঞান আয়োজিত ক্যাম্পেইনে বিজয়ী “সৃষ্টির জন্য মানবতা সংগঠন” পূর্বাচল ৩০০ ফিট রাস্তার সমু মার্কেটে বাইক দুর্ঘটনায় একজন নিহত রুপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভুইয়া রানুর খাদ্য সামগ্রী বিতরন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় মায়েদের পাশে অভিনেত্রী প্রিয়া আমান মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সৃষ্টির জন্য মানবতা সংগঠন

আমার কোয়ারেন্টাইন দিনগুলো এবং আমি

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

পরিবারের সাথে সময় গুলো সব সময় কাটানো হয় না, কখনো অফিসের ব্যস্ততা, কখনো লেখাপড়ার চাপ, নানা রকম কারণে সারা দিন শেষে দেখা যায় রাতে কিছুটা সময় মেলে পরিবারের সাথে কাটানোর।  অনেক সময় দেখা যায় ছুটির দিনগুলোতে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বাইরে কাটানো হয় সময় গুলো, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কতটুকু??  মা বাবা ভাই বোন সবার সাথে হাসি ঠাট্টা যে সম্পর্ক গুলো, হয়তো ভুলতে বসেছিলাম। আর যাইহোক এই কোয়ারান্টিনে দিনগুলো সব ফিরিয়ে দিয়েছে। পরিবারের মানুষের সাথে কাটানো দিনগুলো, মজার মুহূর্ত গুলো আবার ফিরে পাচ্ছি। অদ্ভুত অনুভূতি। পড়াশোনার কোনো চাপ নাই, অফিসের কোন কাজ নাই, পুরোটা দিন পরিবারের সাথে আমি। পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষের সাথে আমি আমার আমিকে আবার নতুনভাবে চিনছি আমি।

অনেকেই আমাকে বলছেন অফিস ছেড়ে পড়াশোনা ছেড়ে সবাই এখন কোয়ারানটাইনে ফ্রি সময় কাটাচ্ছে আর আমি কাটাচ্ছি ব্যস্ততম সময়। তবে এই ব্যস্ততায় আমার এতোটুকু খারাপ লাগা নেই বরং অনেক অনেক অনেক ভালোলাগা কাজ করছে। সময়টা হয়তো খারাপ যাচ্ছে, অনেক মানুষকে আমরা হারাচ্ছি, অনেক মানুষ প্রত্যেকটা দিন নতুন করে অসুস্থ হচ্ছে। এইসব ভয়-আতঙ্ক সব কিছুর মাঝেও যদি একটু ভালোবাসা একটু প্রশান্তি নতুনভাবে ফিরে পাওয়া যায় তার থেকে বড় কিছু আর হয়ত হয়না। এটা ঠিক আগের চাইতে আমি আরো বেশি ব্যস্ত হয়ে গেছি, আগে ছিলাম বাইরে, হয়তো নিজের প্রয়োজনে, কিন্তু এখন পরিবারের প্রয়োজনে পরিবারকে ভালোবেসে আমি ব্যস্ত। এমন ভালবাসায় ঘেরা ব্যস্ততম সময়, আমি সারা জীবন কাটাতে চাই।

যান্ত্রিক শহর টা স্তব্ধ হয়ে গেছে, প্রকৃতি তার নিজের সৌন্দর্য আবার ফিরে পাচ্ছে। এই কোয়ারান্টাইন এ আমরা যেমন অনেক কিছু হারাচ্ছি তেমন অনেক কিছু ফিরেও পাচ্ছি।

“এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায়

আছে যার ভূরি ভূরি–

রাজার হস্ত করে সমস্ত

কাঙালের ধন চুরি।”

নেতিবাচক দিকগুলো আজ না হয় নাই দেখলাম, আজকে কিছু ইতিবাচক দিকগুলো দেখি। এই ইতিবাচক দিকগুলো বেশ কিছুদিন ধরে চোখে পড়ছে, অন্যরকম একটা ভালোলাগা তৈরি হচ্ছে।

১. বাবা-মা দুজনেই চাকরি করেন, ঘরে ছেলেটা একাই থাকে, কাজের মেয়ের কাছে। সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার আগে বাবা মা অফিসে চলে যায়, আবার সারাদিন খেলাধুলায় ক্লান্ত ছেলেটা যখন সন্ধ্যের পর পরই ঘুমিয়ে যায়, তখন বাবা-মা বাসায় ফেরেন। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলো ছাড়া ঠিক মত দেখাই হয় না ছেলের সাথে। সেই ছেলে আজ অনেক খুশি, কারণ বাবা-মা দুজনেই ঘরেতে, শুধু ছুটির দিন না, এক মাস থেকে। গত এক মাস থেকে বাচ্চাটা প্রতিদিন বাবা-মার ভালোবাসা পায়, এতগুলো দিন পর প্রতিটা দিন তার ভালোবাসাময় হয়ে উঠছে, প্রতিটা দিন সে বাবার সাথে খেলে, মায়ের সাথে গল্প শুনে, বাবা মাকে একসাথে পেয়ে অনেক অনেক খুশি। তার যেন আর সুখের শেষ নাই।

২. এই করোনার মধ্যে আমরা যখন ভয় আতঙ্ক নিয়ে বাড়ির মধ্যে বসে আছি, ঠিক সেইসময়ে ভয় আতঙ্ক এসবের তোয়াক্কা না করে শত শত ডাক্তার আমাদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। ভয় আতঙ্ক এসব নিয়ে যখন আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের কে বলছি বাইরে যেও না, ঠিক সেইসময় সেই ডাক্তারটা নিজের পরিবারের মানুষকে বলছেন তোমরা বাসায় থাকো আমার আরও দায়িত্ব আছে। নিজের কথা চিন্তা না করে তিনি সারাটা দিন তার রোগী দেখে যাচ্ছেন। এই মানুষগুলো নিরলস পরিশ্রম আর সেবার মাধ্যমে আমাদের সকলকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছেন, যেখানে তাদের নিজেদের সেবা করার মতো কেউ নেই, তাদের কোন সেফটি ও নেই।

৩. কিছুদিন আগেও পুলিশের নাম শুনলেই মানুষজন গালিগালাজ দিতে কেউ বাদ রাখত না, পুলিশ মানেই ঘুসখোর, পুলিশ মানে টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না, পুলিশ মানেই ঠিকমতো কাজ করে না। আজকে আমরা সবাই দেখছি এই পুলিশগুলো কত সুন্দর ভাবে আমাদের শহরটাকে সুস্থ করে তোলার পিছে সারাটা দিন কাটিয়ে দিচ্ছে, সারাটা দিন চেষ্টা করে যাচ্ছে যেন বাইরে কেউ না যায়। তাদেরও কোনো সেফটি নেই, তারাও সারাটাদিন আতঙ্কের মাঝেই থাকে। সেই খারাপ মানুষগুলো, সারাটা দিন গালিগালাজ খাওয়া মানুষগুলো আজ সুস্থ শহরের প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছে। আমরা পাচ্ছি সত্তিকারের হিরো।

৪. একটা সময় শখ করে অনেকগুলো পাখি পোষা হয়েছিল, সারাদিন পাখি গুলো খাঁচায় থাকতো। তাদেরকে রোজ খাবার দেওয়া হতো, ধীরে ধীরে দুটো পাখি থেকে ছয়টা, বারোটা এভাবে বাড়তে থাকে সংখ্যাটা। কোয়ারান্টাইন এর দিনগুলোতে মানুষগুলো বুঝতে পারছে খাঁচায় বন্দি থাকা সত্যি কতটা কষ্টকর। কিছু মানুষ এই মুহূর্তগুলোকে বুঝতে পেরে, পাখিগুলো মুক্ত করে দিচ্ছে, পাখিগুলো বাঁচার নতুন স্বাদ ফিরে পেয়েছে। নতুনভাবে তারাও বাঁচতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। খোলা আকাশে পাখা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে তারা।

যত যাই করেন, যেভাবেই থাকেন না কেন, দিন শেষে একটি পরিবারের প্রয়োজন আপনার হবেই। এই ভয় আতঙ্কের দিনগুলোতে পরিবারকে সময় দিন, পরিবারের মানুষগুলোর সাথে নতুনভাবে ভালো থাকার শুরু করুন। মানুষগুলোকে বুঝতে চেষ্টা করুন তাদের আরো আপন হয়ে উঠুন। বাসায় থাকুন, নিজে ভালো থাকুন, অন্যকে ভাল রাখুন। বন্ধুসুলভ পরিবারের অভাবে অনেকেই হতাশায় ভোগে, অকালে প্রাণ দেয়। শুধুমাত্র এই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবারের অভাবে। নতুনভাবে সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গুলো পরিবারের মানুষের সাথে গড়ে তুলুন, সমস্ত হতাশা কাটিয়ে নতুনভাবে সময়গুলোকে উপভোগ করুন।

আমরা অনেকেই বলি, এটা করার সময় পাচ্ছি না, ওটা করার সময় পাচ্ছিনা, নিজের সব শখ গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। আমার অনেকেই বলি, অনেক কিছু শেখা-জানা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে বা প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভিড়ে করা হয়ে ওঠে না। আমি বলবো এটাই উপযুক্ত সময়, নিজের শখ, নিজের প্রয়োজন নিজের মাঝে থাকা যত বাধা বিপত্তি বা আপনি মনে করেন এই জিনিসটা আমার শেখা প্রয়োজন, এই জিনিসটা আমার জানা প্রয়োজন, এখন শিখে ফেলুন। নেতিবাচক কোন কিছু না ভেবে, সব সময় ইতিবাচক জিনিসগুলো ভাবুন।

#Stay_safe

#Stay_home

 

লেখাঃ 

আফিয়া ফারজানা প্রমা

Freelance Photographer

রাজশাহী

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

এ জাতীয় আরো সংবাদ..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০প্রতিদিনবার্তা২৪.কম

Theme Customized BY LatestNews